ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরান | |
|---|---|
| রাজধানী ও বৃহত্তম নগরী বা বসতি | তেহরান ৩৫°৪১′০″ উত্তর ৫১°২৫′০″ পূর্ব / ৩৫.৬৮৩৩৩° উত্তর ৫১.৪১৬৬৭° পূর্ব / 35.68333; 51.41667 |
| সরকারি ভাষা | ফার্সি[২] |
| স্বীকৃত আঞ্চলিক ভাষা | |
| দাপ্তরিক লিপি | ফার্সি[২] |
| নৃগোষ্ঠী (২০০৮)[৩] | |
| ধর্ম (২০১১)[৪] |
|
| জাতীয়তাসূচক বিশেষণ | ইরানি |
| সরকার | কর্তৃত্ববাদী একনায়কাধীন[খ] এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রপতিশাসিত ধর্মতান্ত্রিক ইসলামি প্রজাতন্ত্র |
| মোজতবা খামেনেয়ী | |
| মসঊদ পেজেশকিয়ান | |
| মোহম্মদ রেজা আরেফ | |
| মোহম্মদ বাগের গালীবাফ | |
| গোলাম-হোসেইন মোহসেনী-এজেয়ী | |
| আইন-সভা | ইসলামি মজলিসে শূরা |
| গঠন[৭] | |
| প্রায় ৬৭৮ খ্রিস্টপূর্ব | |
| ৫৫০ খ্রিস্টপূর্ব | |
| ২৪৭ খ্রিস্টপূর্ব | |
| ২২৪ খ্রিস্টপূর্ব | |
| ৯৩৪ খ্রিস্টপূর্ব | |
| ১৫০১[৯] | |
| ১লা এপ্রিল ১৯৭৯ | |
| ২৪শে অক্টোবর ১৯৭৯ | |
| আয়তন | |
• মোট | ১৬,৪৮,১৯৫ কিমি২ (৬,৩৬,৩৭২ মা২) (১৭তম) |
• পানি (%) | ১.৬৩ (২০১৫ সাল)[১০] |
| জনসংখ্যা | |
• ২০২৫ আনুমানিক | |
• ঘনত্ব | ৫২/কিমি২ (১৩৪.৭/বর্গমাইল) (১৬৩তম) |
| জিডিপি (পিপিপি) | ২০২৫ আনুমানিক |
• মোট | |
• মাথাপিছু | |
| জিডিপি (মনোনীত) | ২০২৫ আনুমানিক |
• মোট | |
• মাথাপিছু | |
| জিনি (২০২৩) | ৩৫.৯[১৪] মাধ্যম |
| মানব উন্নয়ন সূচক (২০২৩) | ০.৭৯৯[১৫] উচ্চ · ৭৫তম |
| মুদ্রা | ইরানি রিয়াল (﷼) (IRR) |
| সময় অঞ্চল | ইউটিসি+৩:৩০ (ইমাস) |
| ইউটিসি+৪:৩০ (ইদিসস) | |
| তারিখ বিন্যাস | মম-দদ-বববব |
| গাড়ী চালনার দিক | ডানে |
| কলিং কোড | +৯৮ |
| ইন্টারনেট টিএলডি | |
ইরান,[গ] যার দাপ্তরিক নাম ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরান[ঘ] এবং ঐতিহাসিক নাম পারস্য,[ঙ][১৭] হল পশ্চিম এশিয়ার একটি দেশ।[১৮][১৯] এর পশ্চিমে ইরাক, উত্তর-পশ্চিমে তুরস্ক, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া, উত্তরে কাস্পীয় সাগর, উত্তর-পূর্বে তুর্কমেনিস্তান, পূর্বে আফগানিস্তান, দক্ষিণ-পূর্বে পাকিস্তান এবং দক্ষিণে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর অবস্থিত। ইউরেশিয়ার কেন্দ্রে এবং হরমুজ প্রণালীর নিকটে অবস্থিত হওয়ায় দেশটি ভূকৌশলগতভাবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।[২০] ৯.২ কোটিরও বেশি জনসংখ্যা নিয়ে ইরান ভৌগোলিক আয়তন ও জনসংখ্যা উভয় ক্ষেত্রেই বিশ্বে সপ্তদশ স্থানে রয়েছে এবং এটি এশিয়ার ষষ্ঠ বৃহত্তম দেশ।[১২][২১] দেশটি পাঁচটি অঞ্চল ও ৩১টি প্রদেশে বিভক্ত। ইরানের রাজধানী, বৃহত্তম শহর ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হল তেহরান।[২২]
বিশ্বের প্রাচীন ও প্রধানতম ধারাবাহিক সভ্যতাগুলোর একটির আবাসভূমি হিসেবে পরিচিত ইরানের অধিকাংশ অঞ্চল প্রথমবারের মতো খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে হুবক্ষত্রের নেতৃত্বে মাদীয়দের দ্বারা একটি জাতি হিসেবে একত্র হয়। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে মহান কুরুশ হখামনীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করলে এর সরজমিনগত বিস্তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছোয়। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে মহান সিকন্দর এই সাম্রাজ্য জয় করেন। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে একটি ইরানি বিদ্রোহের মাধ্যমে পার্থীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরে দেশকে মুক্ত করে। খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকে পার্থীয়দের উত্তরসূরি হিসেবে সাসানীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পারস্য সভ্যতার ইতিহাসে একটি স্বর্ণযুগের তত্ত্বাবধান করে। এই সময়ে প্রাচীন ইরানে লিখনপদ্ধতি, কৃষি, নগরায়ন, ধর্ম ও প্রশাসনের প্রাচীনতম কিছু বিকাশ দেখা যায়। এককালে জরথুষ্ট্রবাদের কেন্দ্র বলে পরিচিত ইরান খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের মুসলিম বিজয়ের পর ইসলামায়নের মধ্য দিয়ে যায়। ইসলামি স্বর্ণযুগ এবং ইরানি নবজন্মের সময় সাহিত্য, দর্শন, গণিত, চিকিৎসাবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও শিল্পকলায় নতুন উদ্ভাবন ঘটে। এই সময় ইরানি মুসলিম রাজবংশেরা আরব শাসনের অবসান ঘটিয়ে ফার্সি ভাষাকে পুনরুজ্জীবিত করে। পরবর্তীকালে ১১শ থেকে ১৪শ শতাব্দী পর্যন্ত সেলজুক ও খোয়ারিজমীয় শাসন, মঙ্গোল বিজয় এবং তৈমূরীয় নবজন্ম সংঘটিত হয়।
১৬শ শতকে দেশীয় সফবীয় রাজবংশ আবার একটি ঐক্যবদ্ধ ইরানি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে এবং দ্বাদশী শিয়া ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করে, যা আধুনিক ইরান রাষ্ট্রের ভিত স্থাপন করে। ১৮শ শতকে আফশারীয় রাজবংশের আমলে ইরান ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তি; তবে ১৭৯০-এর দশকে কাজারেরা ক্ষমতায় এলে সেই মর্যাদা হারায়। ২০শ শতকের শুরুতে পারসিক সাংবিধানিক বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং ১৯২৫ সালে রেজা শাহ শেষ কাজার শাহকে ক্ষমতাচ্যুত করে পহলবী রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪১ সালে ইঙ্গ–সোভিয়েত আক্রমণের পর তার ছেলে মোহম্মদ রেজা পহলবী ক্ষমতায় আসেন। মোহম্মদ মোসদ্দেগের তেলশিল্পের জাতীয়করণ প্রচেষ্টা ১৯৫৩ সালের ইঙ্গ–মার্কিন অভ্যুত্থানের দিকে নিয়ে যায়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব রাজতন্ত্রের পতন ঘটায় এবং রূহুল্লাহ খোমেইনীর নেতৃত্বে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮০ সালে ইরাক ইরানে আক্রমণ করলে আট বছরব্যাপী ইরান–ইরাক যুদ্ধ শুরু হয়, যা অচলাবস্থায় শেষ হয়। এরপর ইরান ইস্রায়েল ও সৌদি আরবের সঙ্গে ছায়াযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে; ২০২৫ সালের জুনে ইস্রায়েলি হামলা উত্তেজনাকে বারোদিনের যুদ্ধে পর্যবসিত করে। যুদ্ধের পর এবং একটি ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষদিকে সম্ভাব্যভাবে ১৯৭৯ সালের পর বৃহত্তম বিক্ষোভ শুরু হয়।[২৩][২৪] ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রায়েল ঘোষিতভাবে রেজিম পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড়সড় হামলা চালায়।[২৫] ঐ হামলায় আলী খামেনেয়ী নিহত হওয়ার পর ২০২৬ সালের মার্চে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেয়ী দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।[২৬]
ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থা একটি ধর্মতান্ত্রিক ইসলামি প্রজাতন্ত্র, যা নির্বাচিত ও অনির্বাচিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তবে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব সর্বোচ্চ নেতার হাতে ন্যস্ত থাকে। যদিও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, রাষ্ট্রপ্রধান ও সামরিক নেতৃত্বসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো জনভোটের আওতায় পড়ে না। ইরানি সরকার একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে বাজে মানবাধিকার পরিস্থিতির কারণে—যার মধ্যে রয়েছে সমাবেশের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ, পাশাপাশি নারী, জাতিগত সংখ্যালঘু এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা এর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিশেষত অভিভাবক পরিষদের মতো অনির্বাচিত সংস্থার মাধ্যমে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ের কারণে। ইরানের অর্থনীতি একটি কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত অর্থনীতি, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ খাতে রাষ্ট্রীয় মালিকানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যদিও এর পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগও বিদ্যমান। বিপুল জীবাশ্ম জ্বালানি সম্পদের মজুত—বিশেষত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত এবং তৃতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের মজুত—ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান এবং বিশ্বব্যাপী শিয়া ইসলামের কেন্দ্ররূপী ভূমিকার কারণে ইরানকে একটি মধ্যশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইরান একটি পারমাণবিক দোরগোড়াস্থ রাষ্ট্র এবং এর পারমাণবিক কর্মসূচি বিশ্বে সবচেয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষিতগুলোর একটি; ইরান দাবি করে যে, এটি সম্পূর্ণভাবে বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। তবে পারমাণবিক অস্ত্রোৎপাদন পর্যবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতিসংঘীয় সংস্থা আইএইএ দু’বার ইরানকে তার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে অমান্যকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।[২৭][২৮] ইরান জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বহু আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যরাষ্ট্র। ইরানে ২৯টি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান রয়েছে—যা বিশ্বে দশম সর্বোচ্চ—এবং অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে দেশটি চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]ইরান পৃথিবীর প্রাচীনতম কাল থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত অস্তিত্বশীল বৃহৎ সভ্যতাগুলোর মধ্যে অন্যতম। ইরানের ইতিহাস হাজার হাজার বছরের যার সূচনা হিসেবে বলা যায় ইরানি প্লেট-এ অবস্থিত আজারবাইজানের মানইয়ান সভ্যতা। এর পর আসে জাবোলের শহর-ই-সোখতা এবং প্রাচীন জিরফ্ট সম্রাজ্য যা এলাম সম্রাজ্য এবং আকামেনিদ সাম্রাজ্য দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। পরবর্তীতে আসে পারস্য এবং সাসানীয় সাম্রাজ্য যার পতনের মাধ্যমেই আধুনিক ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানের অভ্যুদয় ঘটে।
পৃথিবীর উত্তরাংশ থেকে আর্যদের আগমনের পূর্বেই ইরানি প্লেটে অনেক প্রাচীন এবং প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে অগ্রগামী সভ্যতার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় যদিও আর্য জাতির অনেক ইতিহাসই এখনও পর্যন্ত অনেক ঐতিহাসিকের কাছে অজানা রয়ে গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার ফলাফল অনুসারে পারস্যের ইতিহাসের সূচনা ধরা হয়েছে প্যালিওলিথিক যুগের মাঝামাঝি সময়ে অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ১০০,০০০ বছর আগে।
৭ম শতাব্দীরে ইসলামের পারস্য বিজয়-পরবর্তী ইরানের ইতিহাস নিচে দেয়া হল। আরব মুসলিমেরা ৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দে পারস্য সাসানীয় সাম্রাজ্যে আক্রমণ শুরু করে। পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে তারা এলবুর্জ পর্বত ও কাস্পিয়ান সাগরের তীরবর্তী সমভূমি ব্যতীত সমগ্র ইরান করায়ত্ত করে। ৬৫১ সালে তারা সাসানিদ সাম্রাজ্যের পূর্ণ পতন ঘটাতে সক্ষম হয়। এর পর প্রায় দুই শতাব্দী ধরে ইরান আরব ইসলামিক সাম্রাজ্যের অধীনে থাকে। এসময় মূল ইরানের বাইরে বর্তমান পশ্চিম আফগানিস্তানের হেরাতেও এই সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটেছিল। ইসলামের খলিফারা প্রথমে মদীনা, ও পরবর্তীকালে সিরিয়ার দামেস্ক ও শেষ পর্যন্ত ইরাকের বাগদাদ থেকে ইরান শাসন করতেন। ৯ম শতাব্দীর শেষে এসে পূর্ব ইরানে স্বাধীন রাজ্যের আবির্ভাব ঘটে এবং ১১শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাগদাদের আরব খলিফা ইরানের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
ইসলামের ইরান বিজয়ের পর ইরানীরা ধীরে ধীরে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়া শুরু করে। এর আগে বেশির ভাগ ইরানি সাসানিদ সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রধর্ম জরথুষ্ট্রবাদে বিশ্বাসী ছিল ও কিছু সংখ্যালঘু ইরানি খ্রিস্ট ও ইহুদী ধর্মাবলম্বী ছিল। ১০ম শতকের মধ্যেই ইরানের অধিকাংশ জনগণ মুসলিমে রূপান্তরিত হয়, এবং এদের আধিকাংশই ছিল সুন্নী মুসলিম, তবে কেউ কেউ শিয়া ইসলামের ভিন্ন ভিন্ন ধারা অনুসরণ করত। এদের মধ্যে ইসমাইলি নামের একটি শিয়া গোত্র এলবুরুজ পর্বত এলাকার রুদাবার অঞ্চলে ১১শ থেকে ১৩শ শতক পর্যন্ত একটি ছোট কিন্তু স্বাধীন রাজ্যে বসবাস করত। ১৬শ শতকের আগে ইরানের বর্তমান জাফরি শিয়া ইসলাম-ভিত্তিক পরিচিতি গঠন করেনি।
ইরানের প্রাচীনতম সভ্যতা, ৮ হাজার বছরের ইতিহাসের সাথে এটি "পিরানশাহর" শহর।[২৯][৩০][৩১][৩২]
সরকার ও রাজনীতি
[সম্পাদনা]ইরানের রাজনীতি একটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে গৃহীত সংবিধান এবং ১৯৮৯ সালের সংশোধনী ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সংজ্ঞায়িত করেছে। সংবিধানে ইসলাম ধর্মের শিয়া মতটিকে ইরানের রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ নেতা
[সম্পাদনা]সর্বোচ্চ নেতা (ফার্সি: رهبر معظ, রোমান ভাষায়: রাহবার-এ মোয়াজম), রাহবার, বিপ্লবের নেতা বা সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কর্তৃপক্ষ, হলেন রাষ্ট্রপ্রধান এবং নীতি তত্ত্বাবধানের জন্য দায়ী। আলি খামেনেই বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। রাহবারের তুলনায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। রাহবারের সম্মতিতেই প্রধান মন্ত্রীদের নির্বাচিত করা হয়, যাদের বৈদেশিক নীতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে।[৩৩] রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে প্রার্থীতা জমা দেওয়ার পরে সর্বোচ্চ নেতা বা রাহবার প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য শীর্ষ মন্ত্রণালয়সমূহের মন্ত্রী নিয়োগের সাথে সরাসরি জড়িত।

রাহবার সরাসরি আঞ্চলিক নীতি নিয়ন্ত্রণ করে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ কেবল প্রোটোকল এবং আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। উদাহরণস্বরূপ, আরব দেশগুলিতে রাষ্ট্রদূতদের নিয়োগ করে কুদস বাহিনী, যা রাহবারের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করে।[৩৪] রাহবার আইন সংশোধনের ক্ষমতা রাখেন।[৩৫] রাহবারের অধীনে রয়েছে 'সেতাদ' নামক একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান, ২০১৩ সালের হিসাবে যার মূল্য ছিল প্রায় ৯৫ বিলিয়ন ডলার।[৩৬] এই প্রতিষ্ঠানটির হিসাব এমনকি সংসদের কাছেও গোপন রয়েছে।
রাহবার হলেন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক,[চ] সামরিক গোয়েন্দা তথ্য এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ,[৩৯] এবং যুদ্ধ বা শান্তি ঘোষণা করার একমাত্র ক্ষমতার অধিকারী।[ছ] রাহবার বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় রেডিও এবং টেলিভিশন নেটওয়ার্কের প্রধান, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর কমান্ডার এবং অভিভাবক পরিষদের সদস্যদেরও নিয়োগ করে।
বিশেষজ্ঞ পরিষদ রাহবার নির্বাচনের জন্য দায়ী এবং যোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তার সম্মানের ভিত্তিতে তাকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা রাখে।[৪১] ইরানে এখন পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ পরিষদ কর্তৃক রাহবারের কোনও সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেনি বা তাকে বরখাস্ত করার কোন নজির নেই। রাহবার কর্তৃক নিযুক্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি সাদিক লারিজানি বলেন যে বিশেষজ্ঞ পরিষদ কর্তৃক রাহবার তত্ত্বাবধান করা অবৈধ।[৪২]
অনেকে মনে করেন যে বিশেষজ্ঞ পরিষদ কোনও প্রকৃত ক্ষমতা ছাড়াই একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।[৪৩][৪৪][৪৫] ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস রিপোর্ট করে যে কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের ইরান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ করিম সাদ্দাদপুরের মতে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে দুটি সমান্তরাল ব্যবস্থা বিদ্যমান।[৪৬] যার একটি সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনী যারা পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণ, বিরোধী মত দমনের মত কাজগুলো করে এবং এসব বিষয়ে রাহবারকে রিপোর্ট করে।[৪৭] অন্যটি কূটনীতিক এবং রাজনীতিবিদদের দ্বারা শাসিত "যারা পশ্চিমা মিডিয়া এবং কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার জন্য অনুমোদিত" এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে খুব কমই ধারণা রাখেন।[৪৮]
রাজনৈতিক ব্যবস্থা দেশের সংবিধানের উপর ভিত্তি করে তৈরি।[৪৯] ২০২৪ সালের দ্য ইকোনমিস্ট ডেমোক্রেসি ইনডেক্সে ইরান ১৫৪তম স্থানে রয়েছে।[৫০][৫১] ২০০০ সালে জার্মান বংশোদ্ভূত স্প্যানিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জুয়ান জোস লিনজ বলেন যে "ইরানী শাসন ক্ষমতাবাদের সীমিত বহুত্ববাদের সাথে সর্বগ্রাসীবাদের মতাদর্শগত বাঁককে একত্রিত করেছে"।[৫২]
রাষ্ট্রপতি
[সম্পাদনা]রাষ্ট্রপতি হলেন ইরানের সরকার প্রধান এবং সর্বোচ্চ নেতার পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদমর্যাদার কর্মকর্তা। রাষ্ট্রপতি সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে ৪ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনের আগে, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনীতদের অভিভাবক পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হয়।[৫৩] পরিষদের সদস্যরা সর্বোচ্চ নেতা কর্তৃক নির্বাচিত হন এবং সর্বোচ্চ নেতা রাষ্ট্রপতিকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা থাকে।[৫৪] রাষ্ট্রপতি কেবল এক মেয়াদের জন্য পুনর্নির্বাচিত হতে পারেন।[৫৫] রাষ্ট্রপতি হলেন সেনাবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান। সংসদ কর্তৃক অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
রাষ্ট্রপতি সংবিধান বাস্তবায়নের জন্য এবং সর্বোচ্চ নেতা কর্তৃক বর্ণিত আদেশ এবং সাধারণ নীতি বাস্তবায়নে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের মত কাজগুলো করেন। তবে যেসকল বিষয় সর্বোচ্চ নেতার সরাসরি এখতিয়ারভূক্ত এবং তাঁর সিন্ধান্তই চূড়ান্ত এসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন না।[৫৬] রাষ্ট্রপতি সর্বোচ্চ নেতা কর্তৃক অনুমোদিত চুক্তি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং জাতীয় পরিকল্পনা, বাজেট এবং রাষ্ট্রীয় কর্মসংস্থান বিষয়ক পরিচালনার মতো বিষয়গুলির নির্বাহী হিসেবে কাজ করেন।[৫৭]
রাষ্ট্রপতি সংসদ এবং সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদন সাপেক্ষে মন্ত্রীদের নিয়োগ করেন এবং যেকোনো মন্ত্রীকে বরখাস্ত বা পুনর্বহাল করার ক্ষমতা রাখেন।[৫৮][৫৯][৬০] রাষ্ট্রপতি মন্ত্রী পরিষদের তত্ত্বাবধান করা, সরকারি সিদ্ধান্ত সমন্বয় করা এবং সরকারি নীতি নির্ধারনী বিষয়গুলো আইনসভায় উপস্থাপন জন্য করেন।[৬১] রাষ্ট্রপতির অধীনে আটজন উপ-রাষ্ট্রপতি কাজ করেন, পাশাপাশি ২২ জন মন্ত্রীর একটি মন্ত্রিসভাও রয়েছে যাদের সকলেই রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন।[৬২]
২০২৪ সালের ইরানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর এবং সর্বোচ্চ নেতা কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হওয়ার পর মাসুদ পেজেশকিয়ান বর্তমানে ইরানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।৬৩ এর আগে তিনি তাব্রিজ, ওস্কু এবং আজারশাহর নির্বাচনী জেলার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন এবং ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এর প্রথম ডেপুটি স্পিকার হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ
[সম্পাদনা]আইনসভা
[সম্পাদনা]বিচার বিভাগ
[সম্পাদনা]প্রশাসনিক অঞ্চল
[সম্পাদনা]ইরান ৩০টি প্রদেশে বিভক্ত। ফার্সি ভাষায় এগুলির নাম ওস্তান (استان ostān ওস্তান, বহুবচনে استانها ওস্তান্হা)। প্রতিটি প্রদেশ একটি স্থানীয় (সাধারণত বৃহত্তম) শহর থেকে শাসিত হয়, যাকে প্রদেশটির রাজধানী (ফার্সি ভাষায়: مرکز মার্কাজ) বলা হয়। প্রদেশের প্রশাসক হিসেবে থাকেন একজন গভর্নর (ফার্সি ভাষায়: استاندار ওস্তানদার), এবং তাকে অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় নিয়োগদান করে।
প্রতিটি প্রদেশ আবার অনেকগুলি অংশে বিভক্ত, যাদেরকে ফার্সি ভাষায় বলে শাহ্রেস্তান (شهرستان)। প্রতিটি শাহ্রেস্তান আবার অনেকগুলি জেলায় বিভক্ত, যেগুলিকে বাখ্শ বলে। ( بخش)।
একেকটি শাহ্রেস্তান সাধারণত একাধিক শহর (ফার্সি ভাষায়: شهر শাহ্র) এবং অনেক গুচ্ছগ্রাম (ফার্সি ভাষায়: دهستان দেহেস্তান) নিয়ে গঠিত। শাহ্রেস্তানের একটি শহরকে সাধারণত সেটির রাজধানী বা কেন্দ্রীয় শহরের মর্যাদা দেয়া হয়।
প্রদেশসমূহ
[সম্পাদনা]১৯৫০ সাল অবধি ইরান ১২টি প্রদেশে বিভক্ত ছিল: আর্দালান, আজারবাইজান, বালুচিস্তান, ফারস, জিলান, আরাক-ই-আজম, খোরাসান, খুজেস্তান, কেরমান, লারেস্তান, লোরেস্তান এবং মাজান্দারান।[৭১] ১৯৫০ সালে ইরানকে ১০টি প্রদেশে এবং তার অধীনে অনেকগুলো গভর্নরেটে ভাগ করা হয়: গিলান; মাজান্দারান; পূর্ব আজারবাইজান; পশ্চিম আজারবাইজান; কের্মানশাহ; খুজেস্তান; ফার্স; কের্মান; খোরাসান; ইসফাহান। [৭১] ১৯৬০ হতে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত এক এক করে অনেকগুলো গভর্নরেটকে প্রদেশে উন্নীত করা হয়। সর্বশেষ ২০০৪ সালে তৎকালীন সর্ববৃহৎ খোরাসান প্রদেশকে তিন ভাগে ভাগ করে তিনটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়। [৭২]
শাহ্রেস্তান
[সম্পাদনা]বাখ্শ
[সম্পাদনা]বৈদেশিক সম্পর্ক
[সম্পাদনা]সামরিক বাহিনী
[সম্পাদনা]ইরানে দুই ধরনের সেনাবাহিনী রয়েছে। একটি প্রথাগত সেনাবাহিনী ও বৈপ্লবিক সুরক্ষা বাহিনী।
সেনাবাহিনী
[সম্পাদনা]এর ৪ টি ভাগ রয়েছে। ভূ সেনা , নৌ সেনা , বায়ু সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা সেনা। তবে তাদের বায়ু সেনার বিমানগুলো অধিকাংশ পুরোনো প্রযুক্তির।
পারমাণবিক কর্মসূচি
[সম্পাদনা]আঞ্চলিক প্রভাব
[সম্পাদনা]মানবাধিকার এবং সেন্সরশিপ
[সম্পাদনা]ভূগোল
[সম্পাদনা]

সৌদি আরবের পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। দেশটির মোট আয়তন ১৬,৪৮,০০০ বর্গকিলোমিটার। দেশটি মোটামুটি ত্রিভুজাকৃতির, যার দীর্ঘতম বাহু প্রায় ২,৫০০ কিমি দীর্ঘ এবং যা উত্তর-পশ্চিমে তুরস্কের সাথে সীমান্তে শুরু হয়ে দক্ষিণ-পূর্বে পাকিস্তান সীমান্তে এসে শেষ হয়েছে। ত্রিভুজের তৃতীয় শীর্ষটি উত্তর পূর্বে ইরানের সাথে তুর্কমেনিস্তানের সীমানার মাঝামাঝি অবস্থিত। উত্তর-দক্ষিণে ইরানের সর্বোচ্চ বিস্তার ১,৬০০ কিমি, আর পূর্ব-পশ্চিমে ১,৭০০ কিমি।
প্রাকৃতিক অঞ্চলসমূহ
[সম্পাদনা]ইরানের অভ্যন্তরীণ মালভূমিগুলি প্রায় সম্পূর্ণরূপে পর্বতবেষ্টিত। জগ্রোস পর্বতমালা প্রধান পর্বতমালা এবং এটি দেশটির ভেতরে দিয়ে উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্বে ১,৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্য জুড়ে বিস্তৃত। পারস্য উপসাগরের উত্তর উপকূলের খোঁজেস্তন ছাড়া পশ্চিম ইরানের প্রায় পুরোটাই জগ্রোস পর্বতমালায় গঠিত। পর্বতমালাটির মধ্য অংশ প্রস্থে প্রায় ৩৪০ কিমি চওড়া। এর অধিকাংশ চূড়া ৪,০০০ মিটারেরও অধিক উচ্চতাবিশিষ্ট। এদের মধ্যে ৪,৫৪৭ মিটার উঁচু জার্দ কুহ সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। ২,৩০০ মিটারের চেয়ে উঁচু শৃঙ্গগুলিতে অনেক পানি জমা হয় এবং এগুলি নিচের উপত্যকায় ভূ-গর্ভস্থ পানি আকারে নেমে আসে। এই উপত্যকাগুলি সমুদ্রতল থেকে ১২০০ থেকে ১৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত হলেও যথেষ্ট উর্বর এবং এগুলিতে বিভিন্ন ধরনের শস্যের আবাদ করা হয়।
ইরানের উত্তর প্রান্তে একটি খাড়া, সরু পর্বতমালা কাস্পিয়ান সাগরের পুরো দক্ষিণ তীর জুড়ে অবস্থিত; এর নাম আলবোর্জ পর্বতমালা। এই পর্বতমালাটি প্রায় ৬০০ কিমি দীর্ঘ এবং এর গড় প্রস্থ প্রায় ১০০ কিমি। ইরানের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ দামভান্দ (৫,৬৭০ মি) এই পর্বতমালার মধ্যভাগে অবস্থিত। আলবোর্জের আরও অনেকগুলি চূড়া ৩,৬০০ মিটার ছাড়িয়ে গেছে। এই পর্বতমালার উত্তর ঢালের অরণ্যে সারা বছর ধরে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। এই পর্বতমালা ও কাস্পিয়ান সাগরের অন্তর্বর্তী স্থানে গড়ে ২৪ কিমি প্রস্থবিশিষ্ট একটি উর্বর সমভূমি আছে। আলবোর্জ পর্বতমালার পূর্বে সমান্তরাল কতগুলি পর্বতমালা রয়েছে, যেগুলি ২৪০০ থেকে ২৭০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এই পর্বতমালাগুলির মাঝে অনেক সরু, আবাদী উপত্যকা আছে। ইরানের পূর্ব সীমান্ত ধরে অনেকগুলি অপেক্ষাকৃত নিম্ন উচ্চতার শৈলশিরা চলে গেছে; এদেরকে একত্রে পূর্বের উঁচু অঞ্চল নামে ডাকা হয়।
এই পর্বতমালার বেষ্টনীর মাঝের নিচু এলাকাকে একত্রে কেন্দ্রীয় মালভূমি নামে ডাকা হয়। এদের মধ্যে আছে মধ্য-উত্তর ইরানের দাশ্তে কাভির নামের একটি বিরাট লবণাক্ত মরুভূমি, দক্ষিণ-পূর্বের দাশ্তে লুত নামের নুড়ি ও বালির মরুভূমি এবং একাধিক উর্বর মরূদ্যান।
ইরানের পর্বতগুলি একটি সক্রিয় ভূমিকম্প এলাকার উপর অবস্থিত, এবং প্রতি বছর এখানে বহু ছোট আকারের ভূমিকম্প হয়। বড় আকারের ভূমিকম্প কিছুদিন পর পরই ঘটে এবং বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ১৮শ শতকে ভূমিকম্পের কারণে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহর দুইবার মাটিতে মিশে যায় এবং প্রতিবার প্রায় ৪০,০০০ করে লোক মারা যায়। ২০শ শতকের মধ্যভাগ থেকে দেশটিতে অনেকগুলি বড় আকারের ভূমিকম্প ঘটেছে যাতে হাজার হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। ১৯৯০ সালের জুনে আলবোর্জ ও জগ্রোসের মিলনস্থলে একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৩৭,০০০ লোক মারা যান। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ ইরানে এক ভূমিকম্পে প্রাচীন নগরী বামের অধিকাংশ ধ্বংস হয়ে যায় এবং প্রায় ৩০,০০০ লোক মারা যান। ইরানের অনেকগুলি পর্বত আগ্নেয়। এদের মধ্যে কেবল দামভান্দ পর্বত ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের কুহে তাফতান সক্রিয় আগ্নেয়গিরি; এদের চূড়ার কাছে কিছু সময় পর পর গ্যাস নিঃসরিত হয়।
নদী ও জলাশয়
[সম্পাদনা]ইরানে অনেক নদী আছে, কিন্তু এগুলির প্রায় সবগুলিই স্বল্পদৈর্ঘ্য ও অগভীর এবং নৌপরিবহনের অযোগ্য। কারণ দেশটির একমাত্র নৌপরিবহনযোগ্য নদী এবং এটি দক্ষিণ-পশ্চিমের আহওয়াজ শহরের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বেশির ভাগ নদীর উৎপত্তি পার্বত্য অঞ্চলে এবং সমাপ্তি অভ্যন্তরীণ উপত্যকায়। প্রাচীনকাল থেকে ইরানের অধিবাসীরা নদীগুলিকে সেচকাজে ব্যবহার করে আসছে। ২০শ শতকে আব-এ দেজ, কারখেহ, কারুন, সেফিদ রুদ ও অন্যান্য নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করে সেচকাজের পরিধি বাড়ানো হয় এবং জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। তিনটি নদী ইরানের আন্তর্জাতিক সীমানায় প্রবাহিত হয়। আরাস নদী আর্মেনীয়া ও আজারবাইজানের সাথে সীমান্তে, শাত-আল আরাব নদী ইরাকের সাথে সীমান্তে প্রবাহিত। ইরান চারটি দেশের সাথে বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদ কাস্পিয়ান সাগরের অংশীদার। অনেক ছোট ছোট নোনাপানির হ্রদ ইরানের অভ্যন্তরে অবস্থিত, এদের মধ্যে উত্তর-পশ্চিমের ঊর্মিয়া হ্রদ সবচেয়ে বড়। উঁচু পর্বত উপত্যকা এলাকায় কিছু মিষ্টি পানির হ্রদের দেখা মেলে।
তটরেখা
[সম্পাদনা]ইরানের আন্তর্জাতিক সীমান্তের প্রায় অর্ধেকই তটরেখা। এর মধ্যে আছে কাস্পিয়ান সাগরের তীরে প্রায় ৭৪০ কিমি দীর্ঘ তটরেখা এবং পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের প্রায় ১৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ তটরেখা। কাস্পিয়ান সাগর ও পারস্য উপসাগরে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আছে এবং এলাকাগুলিতে পানির নিচে প্রচুর তেল ও গ্যাস রয়েছে। ইরানের বৃহত্তম পোতাশ্রয় বন্দর-এ আব্বাস হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত।
প্রাণী ও উদ্ভিদ
[সম্পাদনা]ইরানে প্রায় ১০,০০০ প্রজাতির উদ্ভিদ শনাক্ত করা হয়েছে, তবে দেশের অধিকাংশ এলাকায় প্রাকৃতিক বনাঞ্চল উচ্ছেদ করে আবাদী জমি বা পশুচারণভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। বনাঞ্চলে বীচ, ওক ও অন্যান্য পর্ণমোচী গাছ এবং এলবুরুজ পর্বত এলাকায় পাইন, ফার-জাতীয় গাছ জন্মে। জাগরোস পর্বতমালার উঁচু এলাকায় ওক অরণ্য দেখা যায়। এলবুরুজ ও জাগরোস পর্বতমালায় বন্য ফলগাছ যেমন কাঠবাদাম, নাশপাতি, ডালিম, আখরোট জন্মে। দেশের ঊষর কেন্দ্রীয় এলাকায় বন্য পেস্তাবাদাম ও অন্যান্য খরা-সহনশীল গাছ জন্মে। দশ্ত-এ কবীরের প্রান্তে তামারিস্ক বা চিরহরিৎ ঝাউগাছ জন্মে।
ইরানে অনেক স্থানীয় স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ, পাখি ও কীটপতঙ্গ রয়েছে। নেকড়ে, শেয়াল, ভালুক, পাহাড়ি ছাগল, লাল পাহাড়ি ভেড়া ও খরগোশ এখনও বংশবিস্তার করে চলেছে। তবে কাস্পিয়ান বাঘ, কাস্পিয়ান সীলমাছ, হরিণের কিছু প্রজাতি, বনবিড়াল, ইত্যাদি হুমকির সম্মুখীন, যদিও এদের রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ইরানে ৩০০-রও বেশি প্রজাতির পাখি আছে, এদের মধ্যে ২০০-রও বেশি অন্য দেশে অতিথি পাখি হিসেবে বেড়িয়ে আসে।
অর্থনীতি
[সম্পাদনা]ইরানের জিডিপি ৪৩৯.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।ইরানের মাথাপিছু আয় ৫,৪১৫.২১ মার্কিন ডলার। ইরানের অর্থনীতি বৃহৎ সরকারী ক্ষেত্র সংবলিত মিশ্র ও ক্রান্তিকালীন অর্থনীতি।বিশ্বের ১০% তেল ও ১৫% গ্যাস সঞ্চয়সহ ইরানকে পরমাণু শক্তিধর বলে গণ্য করা হয়। ইরানের মুদ্রাস্ফীতি হলো ৩০.৪৮৬% (২০১৮)।প্রধান শিল্পসমূহ পেট্রোলিয়াম, জাফরান,পেট্রোকেমিক্যাল, সার, কস্টিক সোডা, গাড়ি উৎপাদন, যন্ত্রাংশ, ফার্মাসিউটিক্যালস, home appliances, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, টেলিযোগাযোগ, শক্তি, power, textiles, নির্মাণ, সিমেন্ট এবং অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ (বিশেষ করে চিনি শোধন ও ভেষজ তেল উৎপাদন), ferrous and non-ferrous metal fabrication, অস্ত্রশিল্প।
পর্যটন
[সম্পাদনা]ইরানের সর্বত্র পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় অনেক ঐতিহাসিক স্থান আছে। বাম শহরে বিখ্যাত রেশম পথের উপর ২০০৩ সাল পর্যন্তও আর্গ-এ বাম নামে বিশ্বের বৃহত্তম adobe জাতীয় দালানটি অবস্থিত ছিল, তবে দুর্ভাগ্যবশত ২০০৩ সালে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২০০০ বছরের পুরনো দালানটি প্রায় পুরো ধ্বংস হয়ে যায়। এই একই ভূমিকম্পে বাম শহরের আরও অনেক প্রাচীন দালানও ধ্বংস হয়। ইরান সরকার এগুলি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
কের্মানশাহ প্রদেশে রয়েছে বেহিস্তুনের শিলালিপি, যাতে পাহাড়ের গায়ে প্রাচীন পারসিক, ব্যাবিলনীয় এবং এলামীয় অক্ষরে অনেক খোদাইকৃত লেখা পাওয়া যায়। গ্রিকেরা ৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দেও এই শিলালিপিটির উল্লেখ করেছিল।
খুজেস্তান প্রদেশে চোগা জানবিল নামে এলামীয় সভ্যতার একটি প্রাচীন কম্পলেক্স রয়েছে। এটি খ্রিস্টপূর্ব ১৩শ শতকে নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
ইশফাহান শহরের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে বিখ্যাত নক্শ-ই জাহান ময়দান। এই ময়দান চারপাশ ঘিরে রয়েছে সাফাভিদ রাজত্বের অনেকগুলি প্রাচীন নিদর্শন, যাদের মধ্যে দক্ষিণের শাহ মসজিদটি অন্যতম। শাহ মসজিদের জুম্মা নামাজ এখানেই পড়া হয়।
পাসারগাদায়ে একটি প্রাচীন এলামীয় শহরের ধ্বংসাবশেষ। ফার্স প্রদেশে অবস্থিত শহরটি আর্কেমেনীয় পারসীয় সাম্রাজ্যের প্রথম রাজধানী ছিল। এর দক্ষিণ-পশ্চিমে আছে পার্সেপোলিস শহর, যা প্রাচীন পারস্যের বিখ্যাত রাজা দ্বিতীয় কুরোশ খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতকে এটি নির্মাণ করেছিলেন। এই শহরের নানা স্থাপত্যকর্ম ও খোদাইকর্মে প্রাচীন পারসিকদের সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়।
এছাড়াও উত্তর-পশ্চিম ইরানের সোলতানিয়েহ শহরের ধ্বংসাবশেষ, বিশেষত ইল-খান ওলজেইতু-র সমাধিস্তম্ভ দর্শনীয় স্থান। পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশে আছে রাজা সুলায়মানের স্মৃতিবিজড়িত তীর্থস্থান তাখ্ত-ই-সুলাইমান।
এছাড়াও ফার্স প্রদেশের তাঙ্গে বোলাগি নামের উপত্যকায় খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫ সহস্রাব্দ প্রাচীন ১৩০টি মনুষ্য বসতির নিদর্শনবিশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান বিদ্যমান।
জনমিতি
[সম্পাদনা]২০০৬ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ইরানের জনসংখ্যা ৭,০০,৪৯,২৬২। এর মধ্যে এক-চতুর্থাংশের বয়স ১৫ বছর বা তার কম। ইরান জাতিগতভাবে ও ভাষাগতভাবে বিচিত্র এক দেশ। কিছু কিছু শহরে, যেমন তেহরানে, বিভিন্ন জাতির লোকের সহাবস্থান পরিলক্ষিত হয়। এছাড়াও ইরানের বাইরে প্রবাসে আরও প্রায় ৪০ লক্ষ ইরানি নাগরিক বসবাস করেন।[৭৩] এরা মূলত উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ, তুরস্ক, পারস্য উপসাগরীয় দেশসমূহ এবং অস্ট্রেলিয়াতে বাস করেন। সিআইএ ফ্যাক্টবুক অনুসারে ইরানের জাতিগুলি এরকম: পারসিক জাতি ৫১%, আজেরি জাতি ২৪%, গিলাকি জাতি ও মাজান্দারানি জাতি ৮%, কুর্দি জাতি ৭%,আরব জাতি ৩%, লুর জাতি ২%, বেলুচি জাতি ২%, তুর্কমেন জাতি ২% এবং অন্যান্য ১% [৭৪]।
ধর্ম
[সম্পাদনা]ইরানের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং রাষ্ট্রীয় মাজহাব ইসনা আশারিয়া জাফরি।[৭৬][৭৭] এছাড়া হানাফি, মালিকি, শাফিঈ, হাম্বলি ও জায়েদি মাজহাব দেশটিতে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। ইরানের শতকরা ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ লোক শিয়া মুসলমান।[৭৮][৭৯]
খ্রিস্টধর্ম, ইহুদিধর্ম ও জরথুস্ত্রবাদ ইরানের স্বীকৃত সংখ্যালঘু ধর্ম এবং এই সম্প্রদায়গুলোর জন্য দেশটির মজলিস-এ-শূরায় সংরক্ষিত আসন রয়েছে।[৮০] ঐতিহাসিকভাবে, প্রাচীন ইরানি ধর্মসমূহ, যেমন: আদি-ইরানি ধর্ম এবং পরবর্তীকালে জরথুস্ত্রবাদ ও ম্যানিকেইজম, ছিল ইরানের প্রভাবশালী ধর্ম, বিশেষত মধ্য, আকামেনীয়, পার্থীয় ও সাসানীয় যুগে। সাসানীয় সাম্রাজ্যের পতন এবং মুসলিমদের পারস্য বিজয়ের পরবর্তী শতাব্দীকালীন ইসলামিকীকরণের ফলে তা পরিবর্তিত হয়ে পড়ে। ষোড়শ শতাব্দীতে সফবীয় সাম্রাজ্য কর্তৃক শিয়া মতবাদে ধর্মান্তরকরণের পূর্বে ইরান ছিল একটি সুন্নিপ্রধান দেশ।[৮১] বর্তমানে ইরানের ৪ থেকে ৮ শতাংশ লোক সুন্নি মুসলমান, এদের অধিকাংশই কুর্দি ও বেলুচি। বাকি ২% অমুসলিম সংখ্যালঘু খ্রিস্টান, ইহুদি, বাহাই, মান্দীয়, ইয়াজিদি, ইয়ারসানি, জরথুস্ত্র প্রভৃতি সম্প্রদায়ের লোক।[৮২][৮৩]

ইরানের বৃহত্তম (স্বীকৃত নয়) সংখ্যালঘু ধর্ম হল ইয়ারসানবাদ। এটি জরথুস্ত্রবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি কুর্দি লোকধর্ম যার অনুসারী সংখ্যা প্রায় ৩,০০০,০০০। ইয়ারসানিরা মূলত গোরানি কুর্দি ও নির্দিষ্ট লুরস জনগোষ্ঠীর লোক এবং তাদের বসবাস কুর্দিস্তান, কেরমানশাহ ও লোরেস্তান প্রদেশে।
ইরানে ইহুদিধর্মের ইতিহাস বেশ প্রাচীন যা বাবিলের পতনের সময় থেকে শুরু হয়। যদিও বহু ইরানি ইহুদি ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের ফলে দেশত্যাগ করেছিল, এখনও ইরানে প্রায় ৮,৭৫৬[৮৪] থেকে ২৫,০০০[৮৫] ইহুদি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের পর ইরানে সর্বাধিক ইহুদি জনবসতি রয়েছে।[৮৬]
ইরানে প্রায় ২৫০,০০০ থেকে ৩৭০,০০০ খ্রিস্টান বসবাস করে,[৮৭][৮৮] এবং খ্রিস্টধর্ম দেশটির বৃহত্তম স্বীকৃত সংখ্যালঘু ধর্ম। ইরানি খ্রিস্টানদের বেশিরভাগই আর্মেনীয় এবং একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসিরীয়।[৮৯]
বাহাই ধর্ম ইরানে সরকারিভাবে স্বীকৃত নয় এবং এর অনুসারীরা প্রায়ই রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়।[৯০] ইউনাইটেড নেশন স্পেশাল র্যাপর্টর অন হিউম্যান রাইটস ইন ইরানের মতে, বাহাইরা ইরানের বৃহত্তম অমুসলিম ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যাদের সংখ্যা আনুমানিক ৩৫০,০০০।[৯১] ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে বাহাইদের ওপর নিপীড়ন বেড়ে চলেছে, বিশেষত তাদের নাগরিক অধিকার, উচ্চশিক্ষা এবং কর্মসংস্থান থেকে বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।[৯০][৯২][৯৩]
সংস্কৃতি
[সম্পাদনা]ইরানের সংস্কৃতি, যা পারসিক সংস্কৃতি হিসেবেও পরিচিত, বিশ্বের অন্যতম প্রভাব বিস্তারকারী সংস্কৃতি। ইরানকে সভ্যতার দোলনা হিসেবে অভিহিত করা হয়। বিশ্বে ইরানের আধিপত্য বিস্তারকারী ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও সংস্কৃতির কারণে ইরান পশ্চিমে ইতালি, ম্যাসিডোনিয়া, ও গ্রিস, উত্তরে রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপ, দক্ষিণে আরব উপদ্বীপ এবং পূর্বে ভারত উপমহাদেশ ও পূর্ব এশিয়ার সংস্কৃতি ও জনগণের উপর প্রভাব বিস্তার করে। ইরানের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও এর ঐতিহাসিক দীর্ঘস্থায়িত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট হল সারগ্রাহী সাংস্কৃতিক স্থিতিস্থাপকতা।শিল্পকলাঃ ইরানের শিল্প-ঐতিহ্য বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন, সমৃদ্ধ ও সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী এবং এর আওতায় রয়েছে সাহিত্য, সঙ্গীত, নৃত্য, স্থাপত্যকলা, চিত্রাঙ্কন, বুনন, মৃৎশিল্প, হস্তলিপিবিদ্যা, ধাতব ও পাথুরেকর্ম সহ অসংখ্য শাখা।
ইরানি শিল্পকলা একাধিক পর্যায়ের মধ্য দিয়ে বিবর্তিত হয়েছে, যা ইরানের অদ্বিতীয় নান্দনিকতার প্রমাণ। এই পর্যায়সমূহ এলামাইট চোগা জানবিল থেকে শুরু করে মধ্যযুগীয় ও পার্সেপোলিসের হাখমেনীয় কারুশিল্প থেকে বিশাপুরের মোজাইক পর্যন্ত বিস্তৃত।
ভাষা
[সম্পাদনা]ইরানে মূলত তিনটি ভাষাপরিবারের ভাষা প্রচলিত: ইরানীয় ভাষাসমূহ, তুর্কীয় ভাষাসমূহ এবং সেমিটীয় ভাষাসমূহ।সবচেয়ে বেশি ভাষাভাষীবিশিষ্ট ও ভৌগোলিকভাবে সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত হল ইরানীয় ভাষাপরিবারের সদস্য ভাষাগুলি। এদের মধ্যে ফার্সি ভাষা প্রধানতম ভাষা। ফার্সি ইরানের জাতীয় ভাষা। ইরানের ফার্স প্রদেশে প্রচলিত ভাষা থেকে এর উৎপত্তি এবং এর লিখিত ভাষার ইতিহাস ১০০০ বছরেরও বেশি পুরনো। অন্যান্য ইরানীয় ভাষাগুলির মধ্যে পশ্চিম ইরানে কুর্দী ভাষা, উত্তর-পশ্চিমে তাতি ওতালিশি ভাষা, এলবুর্জ পর্বতমালার উত্তরে মাজান্দারানি ও গিলাকি ভাষা, ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানে বেলুচি ভাষা অন্যতম। ইরানে প্রচলিত তুর্কীয় ভাষাগুলির মধ্যে উত্তর-পশ্চিমের আজারবাইজানি ভাষা এবং উত্তর-পূর্বের তুর্কমেন ভাষা প্রধান। এছাড়া ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে খুজেস্তান প্রদেশে এবং পারস্য উপসাগরের উপকূল ধরে সেমিটীয় ভাষাপরিবারের আরবি ভাষা প্রচলিত।
আধুনিক ফার্সি ইরানের সরকারি ভাষা। ফার্সি একটি প্রাচীন সাহিত্যিক ভাষা। ৭ম শতাব্দীতে আরবদের আক্রমণের আগে এটি পাহলভী লিপিতে লেখা হত। ৯ম ও ১০ম শতাব্দীতে ভাষাটি আরবি লিপি ব্যবহার করতে শুরু করে। ১৯৫০ সাল পর্যন্তও কথ্য ফার্সির অনেকগুলি স্বতন্ত্র উপভাষা ছিল, তবে এর পর সরকারি শিক্ষা ও গণমাধ্যমের প্রসারের ফলে একটি মান্য কথ্য ফার্সির উদ্ভব ঘটেছে। এছাড়া কিছু সংখ্যালঘু ভাষাভাষী আছে যাদের নিজস্ব প্রচার মাধ্যম ও প্রকাশনা আছে। এদের মধ্যে তুর্কী ভাষা আজেরি, কুর্দী, আরবি ও আর্মেনীয় প্রধান।
খেলাধুলা
[সম্পাদনা]ইরানেই পোলো খেলার প্রচলন শুরু হয়। ইরানের ইসফাহানের নকশ-ই জাহান স্কোয়ারটি মধ্যযুগীয় রাজকীয় পোলো মাঠের স্থান।
চিত্রশালা
[সম্পাদনা]- ইরানের সর্বোচ্চ বিন্দু মাউন্ট দামেভান্দ, মাজেন্দ্রানের আমোলে অবস্থিত
উদ্ধৃতি
[সম্পাদনা]টীকা
[সম্পাদনা]- ↑ ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানের সংবিধান, অধ্যায় ১, অনুচ্ছেদ ১২: ইরানের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং রাষ্ট্রীয় মজহব জাফরি ইসনা আশারি। এই মূলনীতি চিরকাল অপরিবর্তনীয় থাকবে। তবে হানাফি, শাফিই, মালিকি, হাম্বলি, জায়েদি-সহ অন্যান্য ইসলামি মজহব পূর্ণ সম্মান লাভ করবে। এই মজহবগুলোর অনুসারীরা তাদের নিজ-নিজ ফিকহ অনুযায়ী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে স্বাধীন। ধর্মীয় শিক্ষা-দীক্ষা ও ব্যক্তিগত বিষয়াবলি—যেমন বিয়ে, তালাক, উত্তরাধিকার ও ওসিয়ত—এবং এ সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমা আদালতে দাপ্তরিকভাবে স্বীকৃত। এছাড়া যে কোনো অঞ্চলে যদি উল্লিখিত কোনও মজহবের অনুসারীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়, তাহলে স্থানীয় পরিষদের ক্ষমতার সীমার মধ্যে সেই মজহব অনুযায়ী স্থানীয় বিধান কার্যকর হবে, একই সাথে অন্যান্য মজহবের অনুসারীদের অধিকার সংরক্ষিত থাকবে।[৫][৬]
- ↑ চূড়ান্ত কর্তৃত্ব সর্বোচ্চ নেতার ওপর ন্যস্ত, যিনি রাষ্ট্রপতিরও উচ্চপদস্থ।
- ↑ ফার্সি: ایران, Irân, উচ্চারণ [ʔiːˈɾɒːn] ; ইংরেজি: Iran, () ih-RAHN।
- ↑ ফার্সি: جمهوری اسلامی ایران, উচ্চারণ [dʒomhuːˈɾiːje eslɒːˈmiːje ʔiːˈɾɒːn] ।
- ↑ ফার্সি: پارس, উচ্চারণ [pʰɒːɹs]; বাংলা: পারস্য; ইংরেজি: Persia, () PUR-zhə।[১৬]
- ↑ "সেনাপ্রধান, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পসের সর্বাধিনায়ক এবং সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডারদের নিয়োগ ও বরখাস্ত করা।"[৩৮]
- ↑ "যুদ্ধ ও শান্তি ঘোষণা, এবং সশস্ত্র বাহিনীর সমাবেশ।"[৪০]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Temperman 2010, পৃ. 87।
- 1 2 "Constitution"। Islamic Parliament of Iran। Parliran.ir। ২৭ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ Curtis, Glenn E.; Hooglund, Eric (মে ২০০৮)। "Country Profile: Iran" (পিডিএফ)। লাইব্রেরি অফ কংগ্রেস। পৃ. ৫। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত – Federal Research Division এর মাধ্যমে।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বট: মূল ইউআরএলের অবস্থা অজানা (লিঙ্ক) - ↑ CIA Staff (১৫ অক্টোবর ২০২৪) [2020]। "Explore All Countries—Iran [§ People and Society: Religions]"। CIA.gov/the-world-factbook /। ১০ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০২৪।
Muslim (official) 98.5%, Christian 0.7%, Baha'i 0.3%, agnostic 0.3%, other (includes Zoroastrian, Jewish, Hindu) 0.2% (2020 est.)
Note, this site also links to the "MENA religious affiliation" graphic with its distinct dates (i.e., "Data in graphic compiled in June 2014; updated September 2015."). Hence, the data at the 2024 website appear to be drawn from 2020 sources distinct from the MENA graphic. - ↑ "قانون"। ৭ ডিসেম্বর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "Constitution"। Islamic Parliament of Iran। ২৭ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ Encyclopædia Britannica। "Encyclopædia Britannica Encyclopedia Article: Media ancient region, Iran"। Britannica.com। ৯ মে ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১০।
- ↑ Sarkhosh Curtis, Vesta; Stewart, Sarah (২০০৫), Birth of the Persian Empire: The Idea of Iran, London: I.B. Tauris, পৃ. ১০৮, ১২ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১৮
{{citation}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ Richardson, Andrew; Richardson, Andrew; Richardson, Andrew; Richardson, Andrew; Richardson, Andrew; Richardson, Andrew; Richardson, Andrew; Richardson, Andrew; Richardson, Andrew (৩১ আগস্ট ২০০৯)। "Annuity Online"। SciVee। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০২২।
- ↑ "Surface water and surface water change"। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (OECD)। ২৪ মার্চ ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ অক্টোবর ২০২০।
- ↑ "ইরান জনসংখ্যা (২০২৫)"। ওয়ার্ল্ডোমিটার।
- 1 2 "دادهها و اطلاعات آماری"। www.amar.org.ir। ১৪ মার্চ ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১৮।
- 1 2 3 4 "World Economic Outlook Database, October 2025 Edition. (Iran)"। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। ১৪ অক্টোবর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "Gini Index coefficient"। দ্য ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক। ১৭ জুলাই ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ "Human Development Report 2025" (পিডিএফ)। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী। ৬ মে ২০২৫। ৬ মে ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ৬ মে ২০২৫।
- ↑ "Definition of IRAN"। মেরিয়াম-ওয়েবস্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২।
- ↑ A. Fishman, Joshua (২০১০)। Handbook of Language and Ethnic Identity: Disciplinary and Regional Perspectives (Volume 1)। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ২৬৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০১৯৫৩৭৪৯২৬।
" "Iran" and "Persia" are synonymous" The former has always been used by the Iranian speaking peoples themselves, while the latter has served as the international name of the country in various languages
- ↑ "'CESWW' – Definition of Central Eurasia"। Cesww.fas.harvard.edu। ৫ আগস্ট ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০১০।
- ↑ "Iran Guide"। National Geographic। ১৪ জুন ২০১৩। ১২ ডিসেম্বর ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১৮।
{{ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি}}:|শিরোনাম=এবং|title=একাধিকবার নির্দিষ্ট করা হয়েছে (সাহায্য) - ↑ "Iran's Strategy in the Strait of Hormuz"। The Diplomat। ৮ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০২০।
{{ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি}}:|শিরোনাম=এবং|title=একাধিকবার নির্দিষ্ট করা হয়েছে (সাহায্য) - ↑ "National Census Preliminary Results Released: Iran's Urban Population Up"। Financial Tribune (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ মার্চ ২০১৭। ১৩ জুলাই ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৭।
- ↑
- ↑ "As protests surge, the Iranian regime's options are narrowing"। দি ইকোনমিস্ট। ৯ জানুয়ারি ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০২৬।
- ↑ Doucet, Lyse। "Iran's rulers face biggest challenge since 1979 revolution"। BBC। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২৬।
Iran's rulers are confronting their most serious challenge since their own 1979 revolution.
- ↑ Sanger, David E. (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। "For Trump, the Iran Attack Is the Ultimate War of Choice"। The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২৬।
- ↑ Giraldo, Piper Hudspeth Blackburn, Christian Edwards, Kit Maher, Maureen Chowdhury, Gianluca Mezzofiore, Thomas Bordeaux, Mohammed Tawfeeq, Alison Main, Aileen Graef, Catherine Nicholls, Abbas Al Lawati, Billy Stockwell, Haley Britzky, Frederik Pleitgen, Claudia Otto, Niamh Kennedy, Kosta Gak, Sophie Tanno, Mostafa Salem, Ibrahim Dahman, Tamar Michaelis, Tal Shalev, Max Saltman, Laura Sharman, Vasco Cotovio, Clarissa Ward, Leila Gharagozlou, Chris Lau, Hanna Park, Rhea Mogul, Jerome Taylor, Xiaoqian Lin, CNN staff, Rafael Romo, Will Ripley, John Liu, Alessandra Freitas, Eugenia Yosef, James Legge, Dana Karni, Nina (৮ মার্চ ২০২৬)। "Live updates: Iran war news; Tehran names new supreme leader"। CNN (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০২৬।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|first=প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ Kerr, Paul। "Iran's Nuclear Program: Tehran's Compliance with International Obligations"। Library of Congress। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২৬।
- ↑ Mills, Claire; Curtis, John। "Israel-Iran 2025: Developments in Iran's nuclear programme and military action"। House of Commons Library। UK Parliament। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২৬।
In June 2025, the IAEA Board of Governors adopted a resolution which, for the first time since 2005, formally found Iran to be non-compliant with its nuclear safeguards obligations
- ↑ "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
- ↑ "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
- ↑ "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
- ↑ "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
- ↑ "In jab at rivals, Rouhani says Iran protests about more than economy"। রয়টার্স। ৮ জানুয়ারি ২০১৮। ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮।
- ↑ Al-awsat, Asharq (২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। "Khamenei Orders New Supervisory Body to Curtail Government – ASHARQ AL-AWSAT English Archive"। ১০ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০১৭।
- ↑ "Khamenei orders controversial retirement law amended"। Al-Monitor। ৫ ডিসেম্বর ২০১৮। ৭ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০১৮।
- ↑ "Reuters Investigates – Assets of the Ayatollah"। রয়টার্স। ১১ নভেম্বর ২০১৩। ১২ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০১৮।
- ↑ "The Constitution of Islamic Republic of Iran"। Iran Chamber। ১৩ জুন ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুন ২০২৫।
- ↑ "The Structure of Power in Iran"। Iran Chamber। ১৩ জুন ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুন ২০২৫।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "article107" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Federal Research Division, Library of Congress। "Iran – The Constitution"। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০০৬।
- ↑
- ↑ "Myths and Realities of Iran's Parliamentary Elections"। The Atlantic। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭।
- ↑ "Anomalies in Iran's Assembly of Experts Election – The Washington Institute for Near East Policy"। ২২ মার্চ ২০১৬। ১৭ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭।
- ↑
- ↑ Sanger, David E.; Barnes, Julian E. (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫)। "Iran Is Developing Plans for Faster, Cruder Weapon, U.S. Concludes"। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ Sanger, David E.; Barnes, Julian E. (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫)। "Iran Is Developing Plans for Faster, Cruder Weapon, U.S. Concludes"। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ Sanger, David E.; Barnes, Julian E. (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫)। "Iran Is Developing Plans for Faster, Cruder Weapon, U.S. Concludes"। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "Constitution of Iran"। সুইজারল্যান্ড: University of Bern। ২১ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৬।
- ↑ "Democracy Index 2024"। Economist Intelligence Unit (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০২৫।
- ↑ "Democracy Index 2022: Frontline democracy and the battle for Ukraine" (পিডিএফ)। Economist Intelligence Unit (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ২০২৩। ৩০ মার্চ ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মে ২০২৩।
- ↑ Juan José Linz, Totalitarian and Authoritarian Regimes ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২০-০৭-২৬ তারিখে (Lynne Rienner, 2000), p. 36.
- ↑ "Council of Guardians | Definition, Role, Selection, & History | Britannica"। www.britannica.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০২৫।
- ↑
- ↑ "Iran The Presidency - Flags, Maps, Economy, History, Climate, Natural Resources, Current Issues, International Agreements, Population, Social Statistics, Political System"। www.photius.com। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২৫।
- ↑ "Leadership in the Constitution of the Islamic Republic of Iran"। www.leader.ir (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২৫।
- ↑ "Iran's Khamenei hits out at Rafsanjani in rare public rebuke"। Middle East Eye (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২৫।
- ↑ "Iranian lawmakers warn Ahmadinejad to accept intelligence chief as political feud deepens"। CP। ৮ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০২৫।
- ↑ "Iranian vice-president 'sacked'" (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ জুলাই ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০২৫।
- ↑ Amir Saeed Vakil, Pouryya Askary (২০০৪)। constitution in now law like order। পৃ. ৩৬২।
- ↑ "Iran - The Prime Minister and the Council of Ministers"। countrystudies.us। ২০ মে ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০২৫।
- ↑ "Iran Chamber Society: The Structure of Power in Iran"। www.iranchamber.com। ৫ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০২৫।
- ↑ "Who is in charge of Iran?" (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ জুন ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০২৫।
- ↑ Mallat, Chibli (১৯৯৩)। The Renewal of Islamic Law: Muhammad Baqer As-Sadr, Najaf and the Shi'i International (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৫৩১২২-১।
- ↑ Staff (২৪ মে ২০০৫)। "Iran reverses ban on reformist candidates"। The Guardian (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0261-3077। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০২৫।
- ↑ ইরানের সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদ
- ↑ ইরানের সংবিধানের ৯৪ ও ৯৬ অনুচ্ছেদ
- ↑ "The Guardian Council | Iran Data Portal" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৫।
- ↑ ইরানের সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদ
- ↑ "خانه ملت"। mellat.majlis.ir। ৯ ডিসেম্বর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৫।
- 1 2 Gwillim Law, Statoids website। ""Provinces of Iran""। ২২ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০০৬।
- ↑ Online edition, Al-Jazeera Satellite Network। ""Iran breaks up largest province""। ২০ মে ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০০৬।
- ↑ "Iran: Coping With The World's Highest Rate Of Brain Drain - RADIO FREE EUROPE / RADIO LIBERTY"। ২৯ এপ্রিল ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০১২।
- ↑ "The World Factbook -Iran"। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ এপ্রিল ২০০৮।
- ↑ 2011 General Census Selected Results (পিডিএফ), Statistical Center of Iran, ২০১২, পৃ. ২৬, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৬৪-৩৬৫-৮২৭-৪, ২৪ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ), সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০২০
- ↑ "قانون"। ৭ ডিসেম্বর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০০৬।
- ↑ "Constitution"। Islamic Parliament of Iran। Parliran.ir। ২৭ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ Walter Martin (২০০৩)। Kingdom of the Cults, The। Baker Books। পৃ. ৪২১। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৬৪২-২৮২১-৬। ৩ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০১৩।
Ninety-five percent of Iran's Muslims are Shi'ites.
- ↑ Bhabani Sen Gupta (১৯৮৭)। The Persian Gulf and South Asia: prospects and problems of inter-regional cooperation। South Asian Publishers। পৃ. ১৫৮। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭০০৩-০৭৭-৫।
Shias constitute seventy-five percent of the population of the Gulf. Of this, ninety-five percent of Iranians and sixty of Iraqis are Shias.
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "Colin Brock p 99" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "Abdullah2014" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "CIA" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Contrera, Russell। "Saving the people, killing the faith"। The Holland Sentinel। Holland, MI। ৬ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০১৫।
- ↑ "Jewish woman brutally murdered in Iran over property dispute"। The Times of Israel। ২৮ নভেম্বর ২০১২। ৪ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ আগস্ট ২০১৪।
A government census published earlier this year indicated there were a mere 8,756 Jews left in Iran
- ↑ Sarshar, Houman (৩০ নভেম্বর ২০১২)। "JUDEO-PERSIAN COMMUNITIES i. INTRODUCTION"। Encyclopedia Iranica। ১ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০১৬।
- ↑ "In Iran, Mideast's largest Jewish population outside Israel finds new acceptance by officials"। ১৪ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৫।
- ↑ "Iran Population 2015"। World Population Review। ২০১৫। ৭ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৫।
- ↑ Pecknold, Diane (৬ জুন ২০১৭)। "The Country Music Association, The Country Music Foundation, and Country Music's History"। Oxford Handbooks Online। ডিওআই:10.1093/oxfordhb/9780190248178.013.15।
- ↑ U.S. State Department (২৬ অক্টোবর ২০০৯)। "Iran – International Religious Freedom Report 2009"। The Office of Electronic Information, Bureau of Public Affair। ২৯ অক্টোবর ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- 1 2 International Federation for Human Rights (১ আগস্ট ২০০৩)। "Discrimination against religious minorities in Iran" (পিডিএফ)। fdih.org। পৃ. ৬। ১৯ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ Rehman, Javaid (১৮ জুলাই ২০১৯)। Situation of human rights in the Islamic Republic of Iran। 74th Session of the United Nations General Assembly। New York: United Nations। পৃ. ১৩। ১২ নভেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ Iran Human Rights Documentation Center (২০০৭)। "A Faith Denied: The Persecution of the Bahá'ís of Iran" (পিডিএফ)। Iran Human Rights Documentation Center। ১১ জুন ২০০৭ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০০৭।
- ↑ Kamali, Saeed (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)। "Bahá'í student expelled from Iranian university 'on grounds of religion'"। The Guardian। ৭ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০১৩।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- The President of Iran
- Iran.ir ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৭ মে ২০০৯ তারিখে
- সিআইএ প্রণীত দ্য ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক-এ Iran-এর ভুক্তি
- কার্লিতে ইরান (ইংরেজি)
উইকিমিডিয়া অ্যাটলাসে ইরান
বাংলাদেশ ·
মিশর ·
ইন্দোনেশিয়া ·
ইরান ·
মালয়েশিয়া ·
নাইজেরিয়া ·
পাকিস্তান ·
তুরস্ক
- উদ্ধৃতি শৈলী ত্রুটি: অনাবশ্যক প্যারামিটার
- উন্নয়নশীল ৮টি দেশের সদস্য রাষ্ট্র
- ইরান
- এশিয়ার রাষ্ট্র
- জি১৫ রাষ্ট্র
- ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সদস্য রাষ্ট্র
- ইসলামি প্রজাতন্ত্র
- ১৯৭৯-এ প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র ও অঞ্চল
- ওপেকের সদস্য রাষ্ট্র
- ইরানীয় মালভূমি
- জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র
- মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্র
- নিকট প্রাচ্যের রাষ্ট্র
- পশ্চিম এশিয়ার রাষ্ট্র
- ধর্মশাসক
- সার্বভৌম রাষ্ট্র